ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার আহ্বান ডিসির
সংগৃহীত ছবি
মোস্তাফিজুর রহমান লিটন, রাজশাহী : ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নগরবাসীসহ সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগের ওপর নির্ভর করলে চলবে না; ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মশার বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এ জন্য বাড়িঘর, ছাদ, আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রাজশাহী জেলা সুইমিং প্রাঙ্গণে জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজশাহী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির প্রতিপাদ্য ছিল—‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন হোন, সুস্থ থাকুন’।
জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরি করা এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা অত্যন্ত জরুরি। বাড়ির ছাদে, ফুলের টবে, অব্যবহৃত পাত্রে, ড্রামে কিংবা অন্য কোনো স্থানে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। তাই এসব স্থান নিয়মিত পরীক্ষা করে জমে থাকা পানি অপসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে বাড়ির আশপাশে পরিত্যক্ত সামগ্রী পরিষ্কার রাখা এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা অপরিহার্য। প্রত্যেকে নিজের বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখলে মশার প্রজননস্থল অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি প্রতিবেশীদেরও সচেতন করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলা গেলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি আগাম সতর্কতা ও নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে বৃষ্টির পানি জমে থাকতে পারে—এমন স্থানগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, ড্রাম, পরিত্যক্ত টায়ার ও বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করতে হবে। পাশাপাশি বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ জন্য প্রশাসন, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা জোরদার করা প্রয়োজন। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা, মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল শনাক্তকরণ এবং জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতামূলক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে এ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করা যেতে পারে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক নজরুল ইসলাম, সিনিয়র সহকারী কমিশনার মোঃ আরিফ হোসেন, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ বোরহান উদ্দিন অন্তর এবং জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন। এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করা এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়।
কমেন্ট বক্স